ফাযায়েলে দু’আ ও দু’আ সমূহ

ফাযায়েলে দু‘আ

সৃষ্টিকুলের প্রত্যেকেই অভাবী এবং আল্লাহর কাছে যা আছে তার মুখাপেক্ষী। আর আল্লাহ তা‘আলা অভাব মুক্ত— তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন।

আল্লাহ তা‘আলা বান্দাদের উপর আবশ্যক করে দিয়েছেন তারা তাঁর কাছে দু‘আ করবে। তিনি এরশাদ করেন,

 وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ ۚ إِ نَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ 

“তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। নিশ্চয় আমার ইবাদত করতে অহংকার প্রদর্শন করে; অচিরেই তারা লাঞ্চিত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।” (সূরা গাফেরঃ ৬০)

এ আয়াতে “ইবাদত করতে” অর্থ হচ্ছে দু‘আ করতে। নবী (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, مَنْ لَمْ يَسْاَل اللهَ يَغْضَبْ عَلَيْهِ “যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে চায় না তিনি তার প্রতি রাগাম্বিত হন।” (তিরমিযী) তাছাড়া বান্দা আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে তিনি তার প্রতি খুশি হন। যারা বারবার তাঁর কাছে ধর্ণা দেয় তিনি তাদের ভালবাসেন এবং তাদেরকে নিকটবর্তী করে নেন।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাহাবীগণ এ বিষয়টি অনুধাবন করেছিলেন তাই তুচ্ছ বিষয় হলেও তা আল্লাহর কাছে চাইতেন। সৃষ্টিকুলের কারো সাহাবীগণ প্রার্থনার হস্তকে প্রসারিত করতেন না। এটা এ কারণেই সম্ভব হয়েছিল যে, তাঁরা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গড়েছিলেন তাঁর নৈকট্য লাভ করেছিলেন এবং তিনিও তাঁদেরকে নৈকট্য দান করেছিলেন। কেননা তাঁদের দৃষ্টি ছিল আল্লাহর এই বাণী প্রতি,

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ ۖفَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ ﴿١٨٦﴾

“আমার বান্দা যদি আপনার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে; আমি তো নিকটেই আছি।” (সূরা বাকারাঃ ১৮৬) আল্লাহর নিকট দু‘আর বিশেষ একটি স্থান আছে; বরং দু‘আ আল্লাহর কাছে সর্বাধিক সম্মানিত বিষয়। দু‘আর মাধ্যমে কখনো ফায়সালাকেও রদ করা হয়। দু‘আ আল্লাহর কাছে সর্বাধিক সম্মানিত বিষয়। দু‘আর মাধ্যমে কখনো ফায়সালাকেও রদ করা হয়। দু‘আ কবূল হওয়ার পাওয়া গেলে এবং কবূল না হওয়ার বাধা দূরীভূত হলে মুসলিম ব্যক্তি দু‘আ গ্রহণ করা হয়। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উল্লেখ করেছেন যে, দু‘আকারী তিনটি বিষয়ের যে কোন একটি অবশ্যই পাবে। তিনি এরশাদ করেন: ما من مسلم يدعو بدعوة ليس فيها إثم ولا قطيعة رحم إلا أعطاه الله بها أجدَى ثلاث إمّا  أن تعجل له دعو ته واما ان يدّخرها له في الا خرة وَإ ما أن يصر فَ عنه من السوء مثلها قالوا: إذا نكثر قال: اللهُ أكثرُ “যে কোন মুসলিম আল্লাহ্র কাছে দু‘আ করবে— যে দু‘আর কোন গুনাহ্ থাকবে না, কোন আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে না। তাহলে আল্লাহ্ তাকে নিম্ন লিখিত তিনটির যে কোন একটি দান করবেন:

১। তার দু‘আ দুনিয়াতেই কবূর করা হবে। ২। আখেরাতে তার জন্য উহা সঞ্চয় করে রাখা হবে। ৩। দু‘আর অনুরূপ একটি বিপদ থেকে তাকে মুক্ত করা হরে।” তারা (সাহাবীগণ) বললেন, তাহলে আমরা বেশী বেশী দু‘আ করব। তিনি বললেন, “আল্লাহ আরো বেশী দানকারী।” (আহমাদ)

দু‘আর প্রকারভেদঃ দু‘আ দুই প্রকার (১) ইবাদতের দু‘আ যেমন: নামায, রোযা ইত্যাদি। (২) নির্দিষ্টভাবে কোন বস্তু চাওযার জন্য দু‘আ।

বিভিন্ন দু‘আসমূহ

১। সালাম: (তিরমিযী-২/৯৮(২৬৮৯) 

اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهٗ  

{তোমার প্রতি শান্তি ও আল্লাহর রহমত এবং তার বরকত বর্ষিত হোক।}

২। সালামের জবাব: (মুসনাদে আহমদ : ১২৬১২)

وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهٗ  

{তোমার প্রতি শান্তি ও আল্লাহর রহমত এবং তার বরকত বর্ষিত হোক।}

৩। কাজের শুরুতে: (আল আযকার : ১/১৫৬) 

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ  

{দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।}

৪। ভবিষ্যতে কাজের ইচ্ছা প্রকাশে: (সূরা কাহাফ: ২৪)   

اِنْ شَآءَ اللّهُ  

{যদি আল্লাহ চাহেন}

৫। আল্লাহর মহত্ব প্রকাশে ঃ  (বুখারী : ২৯৯৩)  

سُبْحَانَ اللهِ

{আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করিতেছি}

৬। আল্লাহর নিয়ামতের প্রশংসায় (ইবনে মাজাহ : ৩৮০৫)

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ

{সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য}

৭। হাঁচি দিলে (বুখারী : ৬২২৪) {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য} 

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ

৮। হাঁচির দো‘আ শুনলে (বুখারী : ৬২২৪) 

يَرْحَمُكَ اللّهُ  

{আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন}

৯। ভালো উদ্যোগে খুশি হয়ে (সূূরা কাহাফ : ৩৯) 

مَا شَآءَ اللهُ 

{আল্লাহ যে রকম ইচ্ছ করেন}

১০। ধন্যবাদ জ্ঞাপনে (তিরমিযী : ২০৩৫)

 جَزَاكَ اللهُ خَيْرًا

{আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দেন}

১১। উপরে উঠার সময় (বুখারী : ২৯৯৩)

 اَللّهُ اَكْبَرُ 

{আল্লাহ সবচেয়ে বড়}

১২। নিচের দিকে নামার সময় (বুখারী : ২৯৯৩)  

سُبْحَانَ اللهِ  

{আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি}

১৩। সমতলে চলার দু’আ (বুখারী শরীফ—২৯৯৩)  

لَا اِلَهَ اِلَّا اللّهُ

আল্লাহ ছাাড়া কোন মাবুদ নাই।

১৪। বিপদ ও মৃত সংবাদ শুনলে (সূরা বাকারাহ : ১৫৬)

 اِنَّا لِلّٰهِ وَاِنَّاۤ اِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ      

{আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী}

১৫। ঘুমানোর দু‘আ (বুখারী শরীফ : ৬০৭৯)

اَللّٰهُمَّ بِاسْمِكَ اَمُوْتُ وَاَحْيٰ.  

{হে আল্লাহ! আপনার নামে মৃত বরণ করি ও জীবিত হই।}

১৬। ঘুম থেকে জেগে এ দু‘আ (বুখারী শরীফ : ৬০৭৯)

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْۤ اَحْيٰنَا بَعْدَ مَاۤ اَمَاتَنَا وَاِلَيْهِ النُّشُوْرِ  

{সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমার মৃত্যুর পর জীবিত করেছেন এবং তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে।}

১৭। খাওয়ার শুরুতে (তিরমিযী : ১৮৫৮)

 بِسْمِ اللهِ وَعَلٰی بَرَكَةِ اللهِ 

{আল্লাহর নামে এবং তার বরকত নিয়ে শুরু করছি।}

১৮। খাওয়ার শুরুতে দু‘আ ভুলে গেলে (তিরমিযী : ২/৭, আবু দাউদ : ৩৭৬৭) 

بِسْمِ اللهِ اَوَّلَه وَاٰخِرَه.  

{শুরু এবং শেষে আল্লাহর নাম নিয়ে খাইতেছি।}

১৯। খানার শেষের দু‘আ (তিরমিযী : ৩৪৫৭)

 اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْ ۤ اَطْعَمَنَا وَسَقٰنَا وَجَعَلَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ 

{সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য যিনি আমাদেরকে খাওয়ালেন ও পান করাইছেন এবং মুসলমানদের অন্তভূর্ক্ত করেছেন।}

২০। দাওয়াত খাওয়ার দু‘আ (মুসলিম—৩/১৬২৬ হা:২০৫৫)

اَللّٰهُمَّ اَطْعِمْ  مَّنْ اَطْعَمَنِیْ وَاسْقِ مَنْ سَقَانِیْ      

{হে আল্লাহ! যে আমাকে আহার এবং পান করালো আপনি তাকে আহার এবং পান করান।}

২১। বাথরুমে প্রবেশের দু‘আ (বুখারী শরীফ:৬০৭৭)

 اَللّٰهُمَّ اِنِّیْ ۤاَعُوْذُبِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَآﺋِـثِ

{হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি খবীস নর নারী, জিন জাতি থকে।}

২২। বাথরুম থেকে বের হবার দু‘আ (ইবনে মাজাহ : ৩০০)

 غُفْرَانَكَ الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْۤ اَذْهَبَ عَنِّی الْاَذٰی وَعَافَانِیْ 

{হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। সকল কৃতজ্ঞতা ঐ আল্লাহর জন্য যিনি আমা হতে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করেছেন এবং আমাকে প্রশান্তি দিয়েছেন।}

২৩। মসজিদে প্রবেশের দু‘আ (ইবনে মাজাহ : ১/৫৬) 

اَللّٰهُمَّ افْتَحْ لِيْ ۤ اَبْوَابَ رَحْمَتِكَ

{হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দ্বার উম্মুক্ত করে দিন।}

২৪। মসজিদ হতে বের হবার দু‘আ (মুসলিম: ১৬৮৫) 

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْۤ اَسْئَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ  

{হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনার নিকট আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি}

২৫। ঘর থেকে বের হবার দু‘আ (তিরমিযী : ৩৪২৬)

 بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ وَ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ 

{আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভরসা রেখে শুরু করছি। গোনাহ থেকে বাঁচার এবং কল্যাণ লাভের শক্তি সামর্থ প্রদানের সুযোগ আল্লাহ ছাড়া আর কারো নেই।}

২৬। ঘরে প্রবেশের দু‘আ (আবু দাউদ : ৫০৯৬)

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْۤ اَسْئَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلَجِ  وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ بِسْمِ اللهِ وَلَجْنَا وَبِسْمِ اللهِ خَرَجْنَا وَعَلَى اللهِ رَبَّنَا تَوَكَّلْنَا

{হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট উত্তম প্রবেশ ও উত্তম বের হওয়ার প্রার্থনা করছি। আল্লাহর নামে প্রবেশ করছি এবং আল্লাহর নামেই বের হচ্ছি। আর আমাদের পালনকর্তা আল্লাহর উপর ভরসা করছি}

২৭। অজুর শুরুতে পড়ার দু‘আ (নাসায়ী : ৭৮)  بِسْمِ اللهِ {আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি}

২৮। উজুর শেষের দু‘আ (তিরমিযী : ৫৫)

 اَشْهَدُ اَنْ لَّاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ، اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ   التَّوَّابِيْنَ وَاجْعَلْنِيْ مِنَ الْمُتَطَهِّرِيْنَ. 

{আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত ইবাদতের উপযুক্ত আর কোন মা’বুদ নাই, তিনি একক এবং তাঁহার কোন শরীক নাই। আমি আরও সাক্ষ্য দিতেছি যে, হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (স.) আল্লাহ তা‘আলার বান্দা ও রাসূল। আয় আল্লাহ! আমাকে তওবাকারীর শ্রেণীভূক্ত করিয়া লও। আয় আল্লাহ! আমাকে পবিত্রতা রক্ষাকারীদের শ্রেণীভূক্ত করিয়া লও।}

২৯। দুলহা—দুলহানের জন্য এই দু’আ পড়িতে হয়। (তিরমিযী : ১/৩১৬)

بَارَكَ اللهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِىْ خَيْرٍ ـ

আল্লাহ তোমায় বরকত সমৃদ্ধ করুন, আর তোমাদের (স্বামী—স্ত্রী) মধ্যে কল্যান মূলক কর্মে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত ও মিল মহব্বতের সাথে জীবন যাপনের সামর্থ্য প্রদান করুণ।

৩০। স্বামী—স্ত্রী মিলনের পূর্বে এই দু’আ পড়িতে হয়। (বুখারী শরীফ কিতাবুন নিকাহ্ ৬/১৪১)

 بِسْمِ اللهِ اَللّٰهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَا نَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَارَزَقْتَنَا ـ

[আল্লাহ তা‘আলার নামের সহিত আবম্ভ করিতেছি। হে আল্লাহ্ আমাদিগকে শয়তান হতে দূরে সরাইয়া রাখুন এবং আমাদিগকে অদৃষ্টে যাহা প্রদাণ করিয়াছেন তাহা হইতে শয়তানকে দূরে হটাইয়া দিন।]

৩১। ইঞ্জিন চালিত যানবাহনে আরোহণের সময এ দু’আ পড়িতে হয়। (মুসলিম ৪/২০৮০)

سُبْحَانَ الَّذِىْ سَخَّرَلَنَا هٰذَا وَمَاكُنَّالَه مُقْرِنِيْنَ وَاِنَّااِلٰى رَبِّنَالَمُنْقَلِبُوْنَ ـ

[পবিত্রতা বর্ণনা করিতেছি আল্লাহ্ ত‘আলার, যিনি ইহা আমাদের অধিনস্থ করিয়া দিয়াছেন, অথচ তাহাকে আদেশ মান্যকারী বানানো আমাদের জন্য দু:ষ্কর ছিল অবশ্যই আমাদের আপন প্রভুর নিকট ফিরিয়া যাইতে হইবে]

৩২। বৈঠক শেষ করিয়া এই দু’আ পড়িতে হয়। (তিরমিযী —৩/১১৫)

سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِ كَ اَشْهَدُ انْ لَّۤا اِلٰهَ اِلَّۤا اَنْتَ اَسْتَغْفِرُكَ وَاَتُوْ بُ اِلَيْكَ ـ

[হে আল্লাহ্! আপনার পবিত্রতা ও প্রসংসা বর্ণনা করিতেছি, এই বিষয়ে সাক্ষ্য দিতেছি যে, আপনি ব্যতিত কোন মা‘বুদ নাই। আপনার নিকট গুনাহ্ মাফ চাহিতেছি ও তওবা করিতেছি।]

৩৩। শরিরের কোন স্থানে ব্যথা ও বেদনা হইলে এই দোয়া পড়িতে হয়। (হিছনে হাছিন—১৭৪)

اَعُوْ ذُبِعِزَّةِ اللهِ وَقُدْرَتِه مِنْ شَرِّمَا اَجِدُ وَاُحَاذِرُ ـ

আল্লাহ্ তা‘আলার শক্তির দ্বারা যেই বেদনা আমি বর্তমানে আমি অনুভব করিতেছি ও যাহাকে আগামীতে বৃদ্ধি পাইবার আশংকা করিতেছি তাহার অনিষ্ট হইতে আশ্রয় চাহিতেছি।

৩৪। রোগীর সাথে সাক্ষাৎ কালে এই দু’আ পরিতে হয়ঃ বুখারী ২৩/৮৪৪(৫৪৩৮)

لَا بَأْ سَ طَهُوْرٌ اِنْ  شَآ ءَاللهُ ـ

অর্থঃ ভয় নেই, আল্লাহর মেহেরবানিতে আরোগ্য লাভ করিবে ইনশা—আল্লাহ্।

৩৫। রোগীর কপালে হাত রেখে ৭ বার এই দু‘য়া পড়িতে হয়। তিরমিযী— ২/২৮ (২০৮৩)

اَسْاَ لُ اللهُ الْعَظِيْمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ اَنْ يَّشْفِيَكَ  ـ

অর্থঃ আমি মহান আরশের প্রভু, মহা মহীম আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করিতেছি তিনি যেন তোমাকে রোগ মুক্তি দেন।

৩৬। সাপ—বিচ্ছু সহ সকল ক্ষতি কারক প্রানী—বস্তু থেকে নিরাপদে থাকিবার দু‘আ। মুসলিম— ২/৩৪৭(৬৭০৯)। আবুদাউদ ২/৫৪৪(৩৮৯৮)।

اَ عُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّآ مَّاتِ مِنْ شَرِّ مَاخَلَقَ ـ

অর্থ: আমি আল্লাহ পূর্ণ কালেমা দ্বারা সৃষ্টি জীবের অপকার বা অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করিতেছি।

৩৭। কু—দৃষ্টি থেকে শিশুদের রক্ষার পাবার দু‘আ। বুখারী— ৩৩৭১/৩১২৯।

ا َعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّآ مَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطٰنٍ وَّ هَآمَّةٍ  وَّمِنْ كُلٍّ عَيْنٍ لَآ مَّةٍ

অর্থঃ আমি আল্লাহর পূর্ণ কালিমা দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করিতেছি প্রত্যেক শয়তান, বিষধর জন্তু এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর চক্ষু থেকে।

৩৮। দুধ পানের দু‘আ। আবুদাউদ— ২/৫২৪ (৩৭৩০) তিরমিযী—২/১৮৩ (৩৪৫৫)।

اَللّٰهُمَّ بَا رِكْ لَنَا فِيْهِ وَزِدْنَا مِنْهُ  ـ

অর্থ: হে আল্লাহ্ ! আমাদের জন্য এতে বরকত দান কর এবং তা বৃদ্ধি করিয়া দাও।

৩৯। নিদ্রাবস্থায় ভয় পেলে এই দু‘আ পরিতে হয়।

আবু দাউদ—২/৫৪৩, ৩৮৯৩, তিররিযী—২/১৯২ (৩৫২৮)।

اَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّآ مَّةِ مِنْ غَضَبِه وَعِقَابِه وَشَرِّعِبَادِه وَمِنْ هَمَزَا تِ الشَّيٰطِيْنِ وَاَنْ يَّحْضُرُوْنَ ـ

অর্থ: আমি আশ্রয় চাই আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্য সমূহের মাধ্যমে তাঁহার ক্রোধ ও শাস্তি হইতে, তাঁহার বান্দাদের অপকারিতা হইতে, শয়তানের কুমন্ত্রনা ও তাহাদের উপস্থিতি হইতে।

৪০। আল্লাহ বান্দাকে সুশি করার আমল

হুযূর (স.) বলেন, যে ব্যক্তি নিম্নের দু‘আটি সকাল সন্ধ্যা তিনবার করে পড়বে কিয়ামতের দিন আল্লাহপাক তাকে খুশি করবেন।(তিরমিযী)

رَضِيْتُ بِاللهِ رَبًّا وَّبِالْاِسْلَامِ دِيْنًا وَّبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا. 

৪১। পেরেশানী দূর হওয়ার আমল

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি আমলের কথা বলব যদি তুমি এটা পড় তবে আল্লাহ সকল পেরেশানী দূর করবেন এবং তোমাদের ঋণ পরিশোধ করার ব্যবস্থা করবেন। (মিশকাত শরীফ)

اَللّٰهُمَّ اِنِّىْۤ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحُزْنِ وَاَعُوْذُبِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَاَعُوْذُبِكَ مِنَ الْجُبُنِ وَالْبُخْلِ وَاَعُوْذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ.

৪২। সবরকম বিপদ হতে বাঁচার আমল

যে ব্যক্তি সকাল—বিকাল নিম্নের দু’আ তিনবার পড়বে আল্লাহ তা‘আলা তাকে সবরকম বিপদ আপদ হতে রক্ষা করবেন। (মিশকাত ও তিরমিযী)

بِسْمِ اللهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِه شَىْءٌ فِى الْاَرْضِ وَلَا فِى السَّمَآءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ.

৪৩। দুনিয়া ও আখেরাতের দুশ্চিন্তা হতে বাঁচার আমল

হযরত আবু দারদা (রা.) রাসূলুল্লাহ (স.) হতে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি সকাল—সন্ধ্যায় সাতবার নিম্নের দু‘আ পড়বে আল্লাহ তা‘আলা তাকে ইহকাল ও পরকালের সকল দুশ্চিন্তা হতে মুক্ত করে দিবেন। (আবু দাউদ)

حَسْبِىَ اللهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّـلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ.




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ