রাসূল (স.) কে স্বপ্নে দেখার আমল

 

রাসূল (স.) কে স্বপ্নে দেখার আমল:
দুনিয়াতে এমন কোন মুসলমান নাই যে রাসূল (স.) কে স্বপ্নে দেখার মনোবাসনা অন্তরে পোষণ করে না! আর ইশ্ক ও ভালোবাসা অনুযায়ী তার সে মনোবাসনা বাড়তে থাকে। আকাবির, মাশায়েখ ও বুযুর্গানে দ্বীনরা কয়েক ধরণের আমল করে ও বিভিন্ন ধরণের দুরুদ শরীফের আমল দ্বারা তাদের এ বিষয়ে কামিয়াব হওয়ার কথা লিখেছেন সেসব আমল দ্বারা দোজাহানের বাদশাহ রাসূল (স.) এর দীদার স্বপ্ন যোগে তাদের নসীব হয়েছে। 
(১) আল্লামা সাখাবী (রহ.) ক্বওলে বাদী নামক কিতাবে স্বয়ং রাসূল (স.) এর একটি হাদীস বর্ণনা করেন: 

مَنْ صَلّٰى عَلٰى رُوْحِ مُحَمَّدٍ فِى الْاَرْوَاحِ. وَعَلٰى جَسَدِه فِى الْاَجْسَادِ .وَ عَلٰى قَبْرِه فِى الْقُبُوْرِ.

অর্থাৎ, যে ব্যক্তি সকল রূহের মধ্য হতে মুহাম্মদ (স.) এর পবিত্র রূহের প্রতি ও সমস্ত শরীরের মধ্য হতে মুহাম্মদ (স.) এর পবিত্র শরীরের প্রতি এবং সমস্ত কবরের মধ্য হতে মুহাম্মদ (স.) এর পবিত্র কবরের প্রতি দুরূদ শরীফ পাঠ করবে  সে আমাকে স্বপ্নে দেখবে)। আর যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখবে সে কিয়ামতে আমাকে দেখবে। আর যে কিয়ামতে আমাকে দেখবে তার জন্য আমি শাফায়াত করব। আর যার জন্য আমি শাফায়াত করব সে আমার হাউজে কাউছার হতে পানি পান করবে। হাউজে কাউছারের পানি পান করার কারণে আল্লাহ পাক তার শরীরকে জাহান্নামের আগুনে জ্বলা হারাম করে দিবেন। 
(২) আল্লামা সাখাবী (রহ.) বলেন, হযরত আবুল কাসেম বসতী (রহ.) এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু এ হাদীসটির বর্ণনার সূত্র এখনো আমি খঁুজে পাইনি। তিনি অন্য স্থানে বলেন, যে ব্যক্তি রাসূল (স.) কে স্বপ্নে দেখতে চায় সে যেন এই দুরূদ শরীফটি পাঠ 
করে। 

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ كَمَاۤ اَمَرْتَنَاۤ اَنْ نُّصَلِّىَ عَلَيْهِ . اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ كَمَا هُوَ اَهْلُه اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ كَمَا تُحِبُّ وَتَرْضٰى.

যে ব্যক্তি উক্ত দুরূদশরীফটি বেজোড় সংখ্যায় পাঠ করবে সে রাসূল (স.)কে স্বপ্নে দেখবে। এই দুরূদ শরীফের সাথে এতটুকু বেশীও পাঠ করা উচিত। 

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى رُوْحِ مُحَمَّدٍ فِى الْاَرْوَاحِ. اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى جَسَدِ مُحَمَّدٍ فِى الْاَجْسَادِ . اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى قَبْرِ مُحَمَّدٍ فِى الْقُبُوْرِ.

(৩) হাকীমুল উম্মত হযরত আশরাফ আলী থানভী (রহ.) যাদুস সাঈদ নামক কিতাবে লিখেছেন, দুরূদ শরীফের সব থেকে আনন্দদায়ক ও ফযীলত বিশিষ্ট কথা হল আশেক ও প্রেমিকগণ এই দুরূদ শরীফ পাঠ করে রাসূল (স.) কে স্বপ্নে দেখার মহামূল্যবান দৌলত হাসিল করে থাকেন। কিছু বুযুর্গানে দ্বীন এই বিষয়ে পরীক্ষা করে সফল হয়েছেন। 
(৪) হযরত শায়েখ আব্দুল হক মোহাদ্দেছে দেহলভী (রহ.) কিতাবুত তারগীব আহলুস সায়াদাতে লিখেছেন: জুম‘আর রাত দুই রাকআত নফল নামায আদায় করবে। (প্রতি রাকআতে ১১ বার আয়াতুল কুরসী ও ১১ বার সূরা ইখলাস পড়বে) সালাম শেষে একশতবার নিম্নে বর্ণিত দুরূদ শরীফটি পাঠ করবে। ইনশা আল্লাহ তিন জুম‘আর পার হওয়ার পূর্বেই রাসূল (স.) কে স্বপ্নে দিদার নসীব হবেঃ

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدِ نِ النَّبِيِّ الْاُمِّيِّ وَاٰلِه وَاَصْحَابِه وَسَلِّمْ.

হযরত শায়েখ আব্দুল হক মোহাদ্দেছে দেহলভী (রহ.) আরও লিখেন যে ব্যক্তি দুই রাকআত নামায আদায় করবে এবং প্রতি রাকআতে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর পঁচিশবার সূরা ইখলাস পাঠ করবে। নামায শেষে এক হাজার বার নিম্নের দুরূদশরীফটি পাঠ করবে সে ব্যক্তি ইনশা আল্লাহ স্বপ্নযোগে হুযূর (স.) কে দেখতে পাবে:

صَلَّى اللهُ عَلَى النَّبِىِّ الْاُمِّيِّ

(৫) তিনি আরও লিখেছেন, শোয়ার সময় সত্তর বার নিম্নের দুরূদ শরীফটি পাঠ করলে রাসূল (স.) এর যিয়ারত স্বপ্নে নসীব হবেঃ

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ  بَحْرِ اَنْوَارِكَ وَ مَعْدَنِ اَسْرَارِكَ  وَلِسَانِ حُجَّتِكَ وَعُرُوْسِ مَمْلَكَتِكَ وَاِمَامِ حَضْرَتِكَ وَطَرَازِ مُلْكِكَ وَخَزَآ ئِنِ رَحْمَتِكَ وَطَرِيْقِ شَرِيْعَتِكَ الْمُتَلَذِّذْ بِتَوْحِيْدِكَ اِنْسَانِ عَيْنِ الْوُجُوْدِ  وَ السَّبَبِ فِيْ كُلِّ مَوْجُوْدٍ عَيْنِ اَعْيَانِ خَلْقِكَ  الْمُتَقَدِّمِ مِنْ نُّوْرِ ضِيَآئِكَ صَلٰوةً   تَدُوْمُ بِدَوَامِكَ وَتَبْقٰى بِبَقَآئِكَ لَا مُنْتَهٰى لَهَا  دُوْنَ عِلْمِكَ صَلٰوةً تَرْضِيْكَ وَتَرْضِيْهِ وَتَرْضٰى بِهَا عَنَّا يَا رَبَّ الْعٰلَمِيْنَ.

(৬) বৃহস্পতিবার রাতে সূরা কাউছার ১০০০ বার এবং দুরূদ শরীফ ১০০০ বার পাঠ করে শয়ন করলে স্বপ্নে নবী করীম (স.) এর যিয়ারত নসীব হবে। ইংশা আল্লাহ। (বহু পরীক্ষিত আমল)।
রওজার কাছে দাড়িয়ে দুরূদ ও সালাম পাঠ করার নিয়ম
হযরত আল্লামা সাখাবী (রহ.) কওলে বাদী নামক কিতাবে লিখেছেন : মদীনা শরীফে যাওয়ার সময় মদীনার বাড়ী ঘর ও গাছ পালা দৃষ্টিগোচর হলে বেশী বেশী দুরূদ শরীফ পড়া উচিত এবং যত বেশী কাছে যাওয়া হবে তত বেশী দুরূদ শরীফ পাঠ করা উচিত। কারণ, মদীনা শরীফ হলো ওহী ও কুরআন পাক অবতীর্ণ হওয়ার স্থান এবং হযরত জিবরাঈল (আ.) ও মিকাঈল (আ.) এর বহুবার আগমনের ভূমি। সকল মানুষের সরদার রাসূল (স.) এর পবিত্র শরীর এই মদীনা শরীফের মোবারক মাটিতে মিশে আছে। এই মদীনা শরীফ থেকেই আল্লাহ পাকের দ্বীন ও নবীর সুন্নতের প্রচার প্রসার হয়েছে। দ্বীনি ফযীলতের বিষয় ও দ্বীনি উত্তম বিষয়সমূহের নিদর্শন স্বরূপ হল, এই মদীনা শরীফের পবিত্র ভূমি। এ ভূমিতে পৌঁছার পর এ ভূমির প্রতি আপন অন্তরকে নিতান্ত ভীত রাখা এবং এ মাটির প্রতি জাহেরী বাতেনী সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। এ কথা মনে করা যে, রাসূল (স.) এর—ই— যিয়ারত করছি। 
এটা তো অতীব সত্য কথা যে, আগন্তুকের সালামের শব্দ রাসূল (স.) নিজেই শুনতে পান। পরস্পরে ঝগড়া ও বেহুদা কথাবার্তা থেকে পরিপূর্ণভাবে বিরত থাকা উচিত। এরপর কেবলার দিক থেকে রওজা শরীফের কাছে উপস্থিত হওয়া এবং কিছুটা দূরে দাড়িয়ে নিচের দিকে দৃষ্টি রেখে নিতান্ত খুশু খুযু ও আদব সম্মানের সাথে এই ভাবে সালাম পাঠ করা:

اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ 
اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا نَبِيَ اللهِ
اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا خَيْرَةَ  اللهِ        
 اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا خَيْرَ خَلْقِ اللهِ
اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا حَبِيْبَ  اللهِ اَلسَّلَامُ  
عَلَيْكَ يَا سَيِّدَ الْمُرْسَلِيْنَ
اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا خَاتَمَ النَّبِيِّيْنَ
اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُوْلَ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ 
اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ
اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا قَائِدَ الْغُرَّ الْمُحَجَّلِيْنَ
اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا بَشِيْرُ
اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا نَذِيْرُ
اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ وَعَلٰى اَهْلِ بَيْتِكَ الطَّاهِرِيْنَ وَعَلٰى سَائِرِ الْاَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِيْنَ
اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ وَعَلٰى أَزْوَاجِكَ الطَّاهِرَاتِ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ
اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ وَعَلٰى اَصْحَابِكَ اَجْمَعِيْنَ
اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ وَعَلٰى سَائِرِ عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِيْنَ
جَزَاكَ اللهُ عَنَّا يَا رَسُوْلَ اللهِ ! أَفْضَلُ مَاجَزَاء نَبِيًّا عَنْ قَوْمِه وَرَسُوْلًا عَنْ اُمَّتِه 
وَصَلَّى اللهُ عَلَيْكَ كُـلَّمَا ذَكَرَكَ الذَّاكِرُوْنَ وَكُـلَّمَا غَفَلَ عَنْ ذِكْرِكَ الغَافِلُوْنَ.
وَالصَّلٰوةُ عَلَيْكَ فِى الْاَوَّلِيْنَ وَالصَّلٰوةُ عَلَيْكَ فِي الْاٰخِرِيْنَ اَفْضَلُ وَاَكْمَلُ وَاَطْيَبُ مَا صَلَّى عَلٰى اَحَدٍمِّنَ الْخَلْقِ اَجْمَعِيْنَ كَمَا اسْتَنْقَذَنَا بِكَ مِنَ الضَّلَالَةِ وَبَصَرُنَابِكَ مِنَ الْعَمْىِ وَالْجَهَالَةِ وَاَشْهَدُ اَنْ لَّاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاَشْهَدُ اَنَّكَ عَبْدُه وَرَسُوْلُه وَاَمِيْنَةٌ وَخَيْرِيَةٌ مِنْ خَلْقِه . وَاَشْهَدُ اَنَّكَ قَدْ بَلَّغْتَ الرِّسَالَةَ وَاَدَّيْتَ الْاَمَانَةَ وَنَصَحْتَ الْاُمَّةَ وَجَاهَدْ تَ فِي اللهِ حَقَّ جِهَادِهْ. اَللّٰهُمَّ اِنَّه نِهَايَةً مَا يَنْبَغِيْ اَنْ يَّأمِلَهٗ الْاٰمِلُوْنَ  قُلْتُ وَذَكَرَه  النَّوَوي فِي مُنَاسَكِه بِاَكْثَرَ مِنْهُ.

এরপর নিজের জন্য দু‘আ করা ও সকল উম্মতে মুহাম্মদীয়ার জন্য দু‘আ করা যাতে সকলে নেক ও সালেহ হতে পারে। 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ